বিদেশে পড়াশোনা প্রস্তুতি চেকলিস্ট – ১ বছর আগে যা যা করবেন
বিদেশে পড়তে যাওয়ার ১ বছর আগে করণীয়: সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গাইড (স্টুডেন্ট ভিসা ও স্কলারশিপ সহ)
(যেকোনো দেশে পড়তে গেলে, এই তথ্যগুলো আশা করি আপনাকে সহায়তা করবে)
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে কমপক্ষে এক বছর আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু করা জরুরি। নাম ও সার্টিফিকেট সংশোধন, পাসপোর্ট তৈরি, SSC/HSC ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট সংগ্রহ এবং শিক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পাশাপাশি IELTS প্রস্তুতি, SAT/ACT বা GRE/GMAT পরীক্ষার পরিকল্পনা, রেকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহ এবং শক্তিশালী SOP লেখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নিজের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদন ডেডলাইন মেনে চলা এবং স্কলারশিপের সুযোগ খোঁজা উচিত। এছাড়া ভলেন্টিয়ারিং, কম্পিউটার স্কিল উন্নয়ন, রান্না ও ড্রাইভিং শেখা বিদেশে জীবনযাপনে সহায়ক হবে। এই গাইডে ধাপে ধাপে বিদেশে পড়াশোনার পূর্ণ প্রস্তুতি চেকলিস্ট তুলে ধরা হয়েছে।
![]() |
১: নাম ও পিতামাতার নাম যাচাই
আপনার নাম এবং আপনার পিতামাতার নামের সাথে মিল রেখে সার্টিফিকেটে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করবেন, হতে পারে নামের বানানে ভুল বা অন্য কিছু, এ সময়ে একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন আপনার পিতামাতার ভোটার আইডিতে যে নাম আছে ঔ নাম ই যেন সার্টিফিকেটে থাকে, মোট কথা আপনার জন্মসনদ, সার্টিফিকেট এবং বাবামার এনআইডিতে যেন সেম নাম থাকে
২: পাসপোর্ট তৈরি:
পাসপোর্ট তৈরিঃ পাসপোর্ট তৈরির সময় পূর্বের সার্টিফিটের মতো নাম এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার দিকে খেয়াল রাখবেন, এমন যেন না হয় জন্মসনদে আছে বর্তমান ঠিকানা বরিশাল কিন্তু পাসপোর্টে কোনোভাবে এসে গেছে নোয়াখালী
( ১,২ নং পয়েন্টে কোনোভাবে ভুল হলে এগুলো সংসোধন বিদেশে পরতে যান বা না যান এমনিতেই জরুরি এবং সংসোদন একটু সময় সাপেক্ষ বিষয়)
৩: সার্টিফিকেট সংগ্রহ:
SSC, HSC এর নম্বরপএ এবং সার্টিফিকেট বোর্ড থেকে সংগ্রহ করা এবং মাস্টার্সে যেতে চাইলে অনার্সের সার্টিফিকেট বিশব্বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সংগ্রহ করে রাখা
৪: সত্যায়ন:
সার্টিফিকেট সংগ্রহের পর এগুলো শিক্ষা, এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করা
৫: IELTS প্রস্তুতি:
আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রিপারেশন টা একটু আগে থেকেই নেওয়া ভালো, কারন অনেকের কাঙ্খিত স্কোর তুলতে অনেক বেশি সময় লেগে যায় এবং এই সময়ের কারণে, অনেকে বিশব্বিদ্যালয়ের সেশন মিস করে ফেলে, যার জন্য এডুকেশন গ্যাপ বেড়ে যায় যার জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়
৬: স্কলারশিপ প্রস্তুতি:
স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের স্টুডেন্টদের জন্য SAT/ ACT পরীক্ষা এবং স্নাতকোত্তর ছাত্রীদের জন্য GRE/ GMAT পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আগে থেকে নেওয়া ভালো
৭: রেকমেন্ডেশন লেটার:
আপনার পরিচিত বা যে সকল শিক্ষকরা আপনাকে ভালো জানে, এই সকল শিক্ষকদের মধ্য থেকে দুইজন টিচারের রেকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহ করে রাখা
৮: SOP প্রস্তুতি:
বিদেশে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য SOP লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রিপারেশন অনেক আগে থেকেই নেওয়া ভালো, যে কিভাবে আপনি এটাকে লিখবেন, এর জন্য অভিজ্ঞ ভাইদের সহযোগিতা নেওয়া বা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ বা অন্য কোথা থেকে সহযোগিতা নেওয়া এবং নিজের মতো করে এটাকে প্রস্তুতি নেওয়া যাতে SOP ভাষাটা নিজের মতো করে হয়
৯:বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা:
ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে মিল রেখে আপনি যে দেশে পড়তে যেতে চাচ্ছেন ওই দেশের মিনিমাম পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে বের করে রাখা এবং যে সাবজেক্টে পড়তে যেতে চাচ্ছেন ওই সাবজেক্টটা যেন আপনার পূর্বের পড়া সাবজেক্ট এর সাথে মিল খায়,ধরেন ধরেন আপনি সায়েন্স থেকে এইচএসসি পাশ করছেন সুতরাং আপনাকে এমন কোন সাবজেক্টই পরবর্তীতে চয়েজ করতে হবে যেটা সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে মিল খায় বা ব্যবসা শিক্ষা বিষয় থেকে আগে পড়াশোনা করে থাকলে এমন সাবজেক্ট পছন্দ করতে হবে যেটা যেন ব্যাবসা শিক্ষার সাথে মিল থাকে
১০:বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন ও বাজেট:
আপনার বাজেট, আপনার পছন্দের শহর সহ সব কিছু বিষয় মাথায় রেখে মিনিমাম পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ আগে থেকে পছন্দ করে রাখা
১১:আবেদন সময়সীমা:
আপনি যে সকল বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করবেন সে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের ডেডলাইনের দিকে খেয়াল রাখা এবং সে অনুযায়ী আগে থেকেই আবেদন করা
১২: ভলেন্টিয়ার অভিজ্ঞতা:
ভলেন্টিয়ার সংগঠনে যুক্ত: আপনি যদি খুব সহজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন করে সিলেক্ট হতে চান বা স্কলারশীপ পেতে চান এবং সহজেই ভিসা পেতে চান তাহলে কিছু ভলেন্টিয়ার সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা এবং তার যথেষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে রাখা
১৩: রান্না শিখুন:
বিদেশে গেলে বেশিরভাগ সময় আপনাকে নিজেকে নিজের রান্না করে খেতে হবে সুতরাং আগে থেকেই দেশ থেকে রান্না শিখে যাওয়া টা ভালো
১৪: ড্রাইভিং:
যদি সম্ভব হয় ড্রাইভিং শেখা তাহলে শিখে ফেলুন, ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে রাখুন এবং যদি আরও সম্ভব হয় তাহলে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে রাখতে পারেন
১৫: কম্পিউটার স্কিল আপগ্রেড:
যদি সম্ভব হয় তাহলে কম্পিউটারে নিজের স্কিল দেশ থেকে আপগ্রেড করে যান যেমন microsoft-office, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টের কাজ শেখা এবং সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে রাখতে পারেন এটা বিদেশে আপনাকে অনেক সাপোর্ট দিবে।
✅ উপসংহার (Conclusion)
বিদেশে পড়াশোনার জন্য ১ বছর আগে শুরু করা প্রস্তুতি হলো সফলতার মূল চাবিকাঠি। নাম, পাসপোর্ট ও সার্টিফিকেট যাচাই থেকে শুরু করে IELTS, SOP, রেকমেন্ডেশন লেটার, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন ও বাজেট পরিকল্পনা—সবকিছু আগে থেকে করলে বিদেশে পড়াশোনা সহজ ও সুশৃঙ্খল হয়। ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং নিয়মিত প্রস্তুতি আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করবে।
1. বিদেশে পড়ার জন্য ১ বছর আগে কেন প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি?
বিদেশে পড়ার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাম, পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট যাচাই, IELTS/ GRE/ SAT প্রস্তুতি, SOP লেখা, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন ও বাজেট পরিকল্পনা আগে করা থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং ভিসা পাওয়া ও স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।
2. নাম ও পাসপোর্ট যাচাই কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জন্মসনদ, SSC/HSC সার্টিফিকেট এবং পাসপোর্টে নাম ও ঠিকানা মিল না থাকলে সমস্যা হতে পারে। বিদেশে পড়ার সময় এই ভুল ঠিক করতে সমস্যা হয়। তাই ১ বছর আগে নাম, বানান ও ঠিকানা ঠিক করে নিতে হবে।
3. সার্টিফিকেট সংগ্রহ ও সত্যায়ন কীভাবে করা উচিত?
SSC, HSC, অনার্স এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেট আগে থেকেই সংগ্রহ করুন। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করিয়ে নিন। এটি বিদেশে ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন ও স্কলারশিপ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।
4. IELTS/ GRE/ SAT/ ACT প্রস্তুতি কখন শুরু করা উচিত?
পরীক্ষার কাঙ্খিত স্কোর পেতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। IELTS বা GRE/GMAT প্রস্তুতি দ্রুত শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন মিস হওয়া ও শিক্ষাগত গ্যাপ এড়ানো যায়, যা ভিসা প্রক্রিয়াতেও সহায়ক।
5. SOP ও রেকমেন্ডেশন লেটার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
SOP লেখার মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বোঝানো হয়। রেকমেন্ডেশন লেটার বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রমাণ দেয় যে আপনি যোগ্য ও দক্ষ। দুইটি বিষয়ই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং সফল হয়।
6. বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কীভাবে করবেন?
আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী কমপক্ষে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিন। সাবজেক্ট নির্বাচন পূর্বের পড়াশোনার সাথে মিল রেখে করুন। বাজেট, শহর পছন্দ ও আবেদনের ডেডলাইনও আগে থেকেই যাচাই করুন।
7. ভলেন্টিয়ার কাজ ও স্কলারশিপের সম্পর্ক কী?
ভলেন্টিয়ার কাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন ও স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া এটি ভিসা প্রক্রিয়ায়ও সহায়ক, কারণ এটি আপনার সিভিতে বাস্তব অভিজ্ঞতা হিসেবে যোগ হয়।
8. বিদেশে জীবনযাপনের জন্য কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
রান্না শেখা, ড্রাইভিং করা, কম্পিউটার স্কিল আপগ্রেড (MS Word, Excel, PowerPoint) ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা বিদেশে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। এগুলো আগে থেকে শেখা থাকলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
